Tuesday, 22 January 2019

২৩ শে জানুয়ারী নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর শুভ জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

হে বীর!

        

              সুরজিৎ ঘোষ । 


হে বীর! সেদিন যদি জন্ম নিতাম -
রক্ত তোমায় নিশ্চিত দিতাম।
শুধু আমি নই,
এ যুগের শতকোটি ভারতীয় নর-নারী
শুধু তোমার কথায় জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিত।
সেই স্বাধীনতা আজও অধরা -
যে স্বাধীনতা দিতে চেয়েছিলে তুমি,
যে স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গকৃত তোমার জীবন
দিয়েছিলে নিজ আত্মাহুতি -
সেই স্বাধীনতা আজও নিভৃতে কাঁদে।
হে ভারতমাতার বীর সন্তান,
হে বীর যোদ্ধা নেতাজী,
আজও জ্বলন্ত অগ্নিশিখার ন্যায়
প্রতিটি ভারতবাসীর হৃদয়ে তুমি বিরাজমান।
হে বীর! আজও আমাদের গর্ব তুমি,
তোমাকে নিয়েই যত অহংকার।
তোমার নেতৃত্বে ভারত -
হতে পারতো আরও সমৃদ্ধ, 
হতে পারতো বিশ্বসেরা -
তুমি ছাড়া ভাগ্যহীনা এ ভারত মাতা


Netaji Subhash Chandra Bose's Birthday Celebration: Location at Gobindapur Primary School, Gobindapur, Helan, Hooghly.
Picture by Surajit Ghosh.

Friday, 18 January 2019

ভুলে যাব।। Vule Jabo.

🥀ভুলে যাব
                           সুরজিৎ ঘোষ।

অবকাশ ছিলনা নাকি অন্য কোন ইচ্ছা ছিল
সে কথা স্পষ্ট করে বলা খুব কঠিন,
হয়তো ইচ্ছা ছিল অন্য কিছু নিয়ে ভাববো বা অন্য কাউকে
বোধহয় সেটাই ছিল তোমাকে অবহেলার কারণ,
তবে সেটাও নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।
সময় তোমার গুরুত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছে,
তোমার সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে
সেকথা আজ অকপটে স্বীকার্য
তুমি কিন্তু উপলব্ধির মধ্যেই ছিলে,
বাকিটা পরিস্থিতির চাপ বলতে পার।
তোমার জন্য হৃদয় আজও কাঁদে -
একাকি কোন নির্জন স্থানে,
তোমার অপেক্ষায় চুলে পাক ধরেছে ঠিকই
কিন্তু মনের সজীবতা আজও ফিকে হয়নি।
জানি, তবু একদিন পরাজিত হব -
সময়ের নিষ্ঠুর আঘাতে।
হয়তো একদিন হ্রাস পাবে সব স্মৃতি,
মিটে যাবে সব অপেক্ষা -
থাকবে না আর কোন অবহেলা,
সেই দিন নিশ্চিত ভুলে যাব তোমায়।
Chrysanthemum.
Picture by Surajit Ghosh.

Saturday, 1 September 2018

যে তৃষা জাগিলে তোমারে হারাবো
সে তৃষা আমার জাগায়ো না,
যে ভালবাসায় তোমারে ভুলিব
সে ভালবাসায় ভুলায়ো না ।
যে জ্ঞানের দীপ তোমারে লুকায়
সে জ্ঞানের দীপ জ্বালায়ো না,
যে যাতনা পেলে তোমারে লভিব
সে যাতনা মোর হরিও না।
যে নেশা আমায় তোমা ছাড়া করে
সে নেশা আমার জাগায়ো না,
যে সুখ লভিলে তোমারে ভুলিব
সে সুখ সাগরে ভাসায়ো না।
যে কথার মাঝে তব কথা নাই
সে কথা আমারে শুনায়ো না,
যে আঁখি ঝরিলে তোমারে লভিব
সে আঁখির ধারা মুছায়ো না।
যে তৃষা জাগিলে তোমারে হারাবো
সে তৃষা আমার জাগয়ো না।


কথা - স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ মহারাজ।
Lyrics -Swami Purnatmananda Maharaj.
সুরকার - স্বামী বলভদ্রানন্দ মহারাজ।
Music - Swami Balavadrananda Maharaj.
কন্ঠ - স্বামী শিবাধীসানন্দ মহারাজ।
Singer - Swami Shibadhisananda Maharaj.

Monday, 27 August 2018

তালগাছ

"তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে
সব গাছ ছাড়িয়ে
উঁকি মারে আকাশে।....."
তালগাছ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই বিখ্যাত 'তাল গাছ' কবিতা মনে পড়ে? গ্রাম-বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে তাল গাছ যে একটা অন্যতম ভূমিকা পালন করে এসেছে সে নিয়ে বিতর্ক তেমন একটা নেই বললেই চলে। মেঠোপথের দুধারে, পুকুর পাড়ে, দিঘির পাড়ে, মাঠের মাঝে অথবা ঘরের আনাচে কানাচে.....এই গাছ রাজত্ব করে এসেছে। কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয় বর্তমানে এই গাছটি পরিমাণে অনেক কম চোখে পড়ছে ।এই ভাবে চলতে থাকলে এই গাছটিও বিলুপ্তির পথে চলে যাবে । অথচ এই তালগাছ কিন্তু একসময় গ্রাম বাংলার মানুষের খাদ্য-বাসস্থান-শিল্প সংস্কৃতিতে অন্যতম ভূমিকা পালন করে এসেছে, এখনও করছে। একসময় সীমানা নির্ধারণের জন্যও তাল গাছ বসিয়েছে মানুষ, কাণ্ডকে ব্যবহার করেছে জলপথে পরিবহনের জন্য। বজ্রবিদ্যুৎ কে টেনে নিয়ে অনেক প্রানীর জীবন রক্ষা করেছে এই তালগাছ। বর্তমানে লোকালয়ে বজ্রপাতে জীবনহানির বেদনাদায়ক ঘটনা প্রায়ই খবরের শিরোনামে থাকে, এই আকস্মিক বিপদের হাত থেকে বাঁচতেও এই গাছটি নিয়ে ভাবা দরকার।
- সুরজিৎ ঘোষ।
Palm trees : Location at pole, Khanakul, Hooghly.
Picture by Surajit Ghosh.

Friday, 17 November 2017

তবু মনে রেখো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


তবু মনে রেখো যদি দূরে যাই চলে।
যদি পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নবপ্রেমজালে।
যদি থাকি কাছাকাছি,
দেখিতে না পাও ছায়ার মতন আছি না আছি
তবু মনে রেখো।
যদি জল আসে আঁখিপাতে,
এক দিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে,
তবু মনে রেখো।
এক দিন যদি বাধা পড়ে কাজে শারদ প্রাতে
মনে রেখো।
যদি পড়িয়া মনে
ছলোছলো জল নাই দেখা দেয় নয়নকোণে–
তবু মনে রেখো।


Wednesday, 15 November 2017

ভগিনী নিবেদিতা।। Sister Nivedita.


■ মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল, এই আইরিশ অগ্নিকন্যাকে আমরা চিনি ভগিনী নিবেদিতা নামে। জন্ম উত্তর আয়ারল্যান্ডের টাইরনে ২৮শে অক্টোবর ১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে। পিতা স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল, মাতা মেরি ইসাবেল। তাঁর জীবনের তিনটি পর্যায় লক্ষ্য করা যায়। জীবনের প্রথম পর্যায়েই তিনি নিজেকে সমাজকর্মী ও শিক্ষিকা হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। মানব সেবাই ঈশ্বর সেবা -পিতার এই শিক্ষা তাঁর জীবনের মূলমন্ত্রে পরিণত হয় এবং মানব সেবাই তাঁর জীবনের মূল লক্ষ হয়ে ওঠে। সেই লক্ষ্যই নিকটবর্তী হয় যখন স্বামীজির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। স্বামীজির জীবন দর্শনেই তিনি তাঁর মানবতার পথকে প্রত্যক্ষ করেন। স্বামীজির আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহন করেন এবং স্বামীজির কাছে দীক্ষা নেন।স্বামীজি তাঁকে দীক্ষা দিয়ে নিবেদন করলেন ভারতমাতার কাজে, নাম দিলেন নিবেদিতা। এখানেই তাঁর জীবনের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হল। ভারতে এসে ভারতবর্ষের শিক্ষা-সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবনের জন্য তিনি নিজেকে নিয়োজিত করলেন। দেশের মেয়েদের শিক্ষিত করার ভার পরেছিল তাঁর উপরেই। স্বামীজির আদেশেই কলকাতার বাগবাজারে মেয়েদের সর্বাঙ্গীন বিকাশের জন্য তিনি একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেন। সেই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টিই বর্তমানে নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয় নামে পরিচিত। কালী দি মাদার, ওয়েব অব্ ইন্ডিয়ান লাইফ, ক্রেডল্ টেলস্ অব্ হিন্দুইজম্ ইত্যাদি গ্রন্থের রচয়িতা তিনি। পরাধীন ভারতের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে নিবেদিতাই তখন সকলের অনুপ্রেরনা। ভারতকে পুনরায় জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন পাইয়ে দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে। কবির কাছে নিবেদিতা তখন লোকমাতায় পরিনত হয়েছেন। স্বামীজির দেহত্যাগের পর তিনি উপলব্ধি করেন স্বামীজির আদর্শকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হলে ভারতকে স্বাধীন করতে হবে। পরাধীনতার অন্ধকারে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব আসা সম্ভব নয় বুঝে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে তিনি নিজেকে যুক্ত করেন। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর জীবনের তৃতীয় পর্যায়। তাঁর কথা ও কাজে ছিল দেশপ্রেমের আগুন, সেই আগুনের ফুলকি যেখানেই পড়েছে সেখানেই লেলিহান হয়ে উঠেছে। শ্রী অরবিন্দের কাছে নতুন নাম পেলেন - শিখাময়ী। তিনি যুব সমাজের বুকে দেশপ্রেমের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন সেই সেইসময়। মাত্র ৪৪ বছর বেঁচেছিলেন তিনি। ১৮৯৮ এর জানুয়ারিতে ভারতে এসেছিলেন, ভারতবর্ষের সর্বাঙ্গীন কল্যানের জন্য। ১২ - ১৩ বছরের তার সেই অক্লান্ত পরিশ্রম আমরা কখনও ভুলবনা। স্বামীজির মানসকুসুমে প্রস্ফুটিত নিবেদিতাই ভারতের জন্য শ্রেষ্ঠ অর্ঘ্য হয়ে থাকবে।

ভুলে যাব।

The Last Letter

The last letter                —Surajit Ghosh   Poetry will not be complete  in the sense of time  I knew, but I tried to fulfil...